
বগুড়া Bogura
প্রাচীন পুণ্ড্রনগর আর দেশজোড়া নামের দই
মহাস্থানগড়ে যেতে হলে আসতে হয় বগুড়ায়। এখানেই প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ, দেশের সবচেয়ে পুরোনো নগরগুলোর একটা। আর বগুড়া মানেই দই। মাটির সরায় জমানো ঘন মিষ্টি দই, দেশের যেখানেই যান, এর নাম শুনবেন।
- মহাস্থানগড়
- বগুড়ার দই
- বেহুলার বাসর ঘর
- কটকটি
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা মহাস্থানগড়
Mahasthangarhপ্রাচীন পুণ্ড্রনগরের প্রাচীরঘেরা ধ্বংসাবশেষ, যার ইতিহাস দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো।
ঘোরার জায়গা গোকুল মেধ (বেহুলার বাসর ঘর)
Gokul Medh (Behula's Bashor Ghor)ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া উঁচু ইটের ঢিবি, স্থানীয় লোককথায় যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেহুলা‑লখিন্দরের নাম।
ঘোরার জায়গা খেরুয়া মসজিদ
Kherua Mosqueষোলো শতকের শেষ দিকের ছোট, মজবুত তিন গম্বুজের মসজিদ, চারপাশে নিরিবিলি ঘাসের চত্বর।
ঘোরার জায়গা নবাববাড়ি (মোহাম্মদ আলী প্যালেস জাদুঘর)
Nawab Palace (Mohammad Ali Palace Museum)করতোয়ার পাড়ে নবাব পরিবারের পুরোনো বাড়ি। এখন জাদুঘর, ভেতরে মূর্তি দিয়ে সাজানো নবাবি জীবনের দৃশ্য, পাশে ছোট পার্ক।
ঘোরার জায়গা সারিয়াকান্দির যমুনা পাড় (কালিতলা ঘাট)
Jamuna riverbank at Sariakandiবগুড়ার পুবে যমুনার চওড়া পাড়। পাথরের গ্রোয়েন বাঁধ আর চরে যাওয়ার নৌকা।
খাবার
খাবার বগুড়ার দই
Bogura Doiমাটির সরায় জমানো ঘন দই, মিষ্টিতে হালকা পোড়া চিনির স্বাদ। দেশের সবচেয়ে নামকরা দই।
খাবার মহাস্থানের কটকটি
Mahasthan Kotkotiমহাস্থানগড়ের আশপাশে ঠোঙা ভরে বিক্রি হওয়া মচমচে ভাজা মিষ্টি।
প্রতীকী ছবি খাবার বগুড়ার লাচ্ছা সেমাই
Bogura Laccha Semaiবগুড়ার সেমাই‑পাড়ার মচমচে, পরতওয়ালা ভাজা সেমাই। ঈদে সারা দেশের পাতে যায়।
প্রতীকী ছবি খাবার আলু ঘাটি
Aloo Ghatiবগুড়ার দাওয়াতের পদ আলু ঘাটি। হাতে ভাঙা আলু গরুর মাংসে মিশিয়ে রান্না, শেষে পাঁচফোড়নের বাগার।
খাবার সারিয়াকান্দির লাল মরিচ
Sariakandi Red Chilliesসারিয়াকান্দির যমুনার চরের লাল মরিচ। মানের দিক থেকে দেশের সেরাগুলোর একটা ধরা হয়।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳১,০০০–২,৫০০
- ভালো হোটেল
- ৳৩,০০০–৭,০০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- ৳৮,০০০–১৫,০০০
হোটেলের নাম ও দাম (১টি)
- পর্যটন মোটেল বগুড়া বনানী, শেরপুর রোড, বগুড়া
দামগুলো কোথা থেকে
ডেইলি স্টার (নভেম্বর ২০২৪) বলছে বগুড়ার হোটেলে, পাঁচ তারকা মানের মম ইন আর নাজ গার্ডেন থেকে পর্যটন ও নর্থওয়ে মোটেল পর্যন্ত, রাতে ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় থাকা যায়; মাঝারি দাম পর্যটন মোটেল বগুড়ার ২০২৬ সালের ভাড়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। কোন স্তরে কত, সেই ভাগটা আনুমানিক।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৯০০–৪,২৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৫টি)
- মহররম আলী দই ঘর স্টেশন রোড, বগুড়া শহর
- সাদা দই (ছোট সরা) · ৳৮০/পিস
- সাদা দই (বড় সরা) · ৳১৭০/পিস
সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - কাঁঠালতলার ফুটপাতের দই বিক্রেতা কাঁঠালতলা ফুটপাত, বগুড়া শহর (চেলোপাড়ার ঘরে বানানো দই)
- মাটির পাত্রে দই (ছোট) · ৳৬০/পিস
- মাটির পাত্রে দই (বড়) · ৳১২০/পিস
সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - আজিজারের কাবাবের দোকান বগুড়া জিলা স্কুলের সামনের ফুটপাত, সাতমাথা
- গরুর ভুঁড়ির কাবাব · ৳৫/পিস
- লুচি · ৳৫/পিস
সাধারণ হোটেল ২০২৬ সালের দাম · সূত্র - নাসির কটকটি প্যালেস মহাস্থানগড়
- কটকটি (কেজি ১৪০-২০০ টাকা) · ৳১৪০/কেজি
- শাহী কটকটি · ৳৩৫০/কেজি
সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - আকবরিয়া হোটেল সাতমাথা ও থানা মোড়ের কাছে, বগুড়া শহর
- টক দই (ছোট সরা) · ৳৯০/পিস
- টক দই (বড় সরা) · ৳১৮০/পিস
- ইফতারি (ওজনে) · ৳২৬০/কেজি
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৫ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- বগুড়ার দই বগুড়া শহরের সাতমাথার আশপাশের মিষ্টির দোকানে, আর শেরপুরে প্রতি সরা মোটামুটি ২০০–৩৫০ টাকা
- মহাস্থানের কটকটি মাজারের কাছে মহাস্থান বাজারের দোকানগুলোতে
- বগুড়ার লাচ্ছা সেমাই বগুড়া শহরের মিষ্টি আর মুদি দোকানে। কারখানাগুলো বেশি বেজোড়া, চেলোপাড়া আর নারুলীতে সয়াবিনে ভাজা কেজি প্রায় ২৪০–৩০০ টাকা, ঘিয়ে ভাজা ৮০০–১,৫০০ টাকা
- আলু ঘাটি বগুড়া শহরের সাতমাথা আর নাটোর রোডের দিকের হোটেলে। গ্রামের কোনো দাওয়াতে ডাক পেলে তো কথাই নেই
- সারিয়াকান্দির লাল মরিচ শুকনো মৌসুমে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের বাজারে আর যমুনার চরের গ্রামগুলোতে
দামগুলো কোথা থেকে
তথ্য কম: বগুড়ার হোটেলের প্লেটের দাম কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি, তাই পাশের রাজশাহী ও গাইবান্ধার ২০২৪-২৫ সালের দাম ধরে হিসাব করা হয়েছে। নাশতার ঘরে বগুড়ার দইও ধরা আছে, ২০২৫ সালে শহরের দোকানে এক সরা ৮০-১৮০ টাকা।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।



