
ঝালকাঠি Jhalokathi
পেয়ারার খাল, শীতলপাটি আর নদীর ঘাট
ঝালকাঠির পরিচয় দুই জিনিসে, পেয়ারা আর শীতলপাটি। জেলার স্লোগানেও এই দুটোর কথাই। বর্ষায় ভীমরুলীর খালগুলো ভরে যায় পেয়ারাবোঝাই নৌকায়। নদীর পাড়ের শহরটা সুগন্ধা আর বিষখালীর মিলনস্থলে। পুরোনো জমিদারবাড়ির ধ্বংসাবশেষ আর পাটি বোনার গ্রাম মিলিয়ে ঝালকাঠি ধীরলয়ের, জলে ঘেরা এক জেলা।
এক নজরে
- ঢাকা থেকে
- সড়কপথে প্রায় ২০০ কিলোমিটার, বাসে বা গাড়িতে মোটামুটি ৫–৭ ঘণ্টা
- খরচ
- থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি দিনে ৭০০–২,২৫০ টাকা (আনুমানিক)
- যাওয়ার সেরা সময়
- ভাসমান বাজার দেখতে জুলাই–সেপ্টেম্বর, ঠান্ডায় আরামে ঘুরতে নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
- ঘোরার জায়গা
- ৭টা, যেমন ভীমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার, কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি আর গাবখান সেতু
সময় আর খরচ আমাদের প্ল্যানার আর সংগ্রহ করা দামের হিসাব। যাওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নিন।
- ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজার
- শীতলপাটি
- পেয়ারা
- কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা ভীমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার
Bhimruli floating guava marketখালের মোহনায় শত শত পেয়ারার নৌকা ভিড় করে। বেচাকেনা সব হয় পানির ওপরেই।
ঘোরার জায়গা কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি
Kirtipasha Zamindar Bariভীমরুলীর খালের কাছে পুরোনো জমিদার এস্টেটের বিস্তৃত ধ্বংসাবশেষ।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা গাবখান সেতু
Gabkhan Bridgeগাবখান চ্যানেলের ওপর উঁচু সেতু। নিচে নৌকা আর সবুজ পাড়, চোখ চলে যায় অনেক দূর।
ঘোরার জায়গা সাতুরিয়া মিয়াবাড়ি, শেরে বাংলার জন্মস্থান
Saturia Mia Bari, Sher-e-Bangla's birthplaceরাজাপুরে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নানাবাড়ি, এখানেই ১৮৭৩ সালে তাঁর জন্ম। এখন সংরক্ষিত ঐতিহ্য, তবে বেশির ভাগই ধ্বংসাবশেষ।
খাবার
খাবার ঝালকাঠির পেয়ারা
Jhalokathi guavaভীমরুলীর খালপাড়ের বাগানের কচকচে, হালকা মিষ্টি পেয়ারা।
খাবার ঝালকাঠির আমড়া
Jhalokathi amraখালপাড়ের বাগানের টক আমড়া। লবণ‑মরিচ দিয়ে কাঁচা খেতেই সবচেয়ে মজা।
খাবার ঝালকাঠির রসগোল্লা
Jhalokathi Rasgollaঝালকাঠির শতবছরের পুরোনো ঘোষদের দোকানের রসে ভরা বড় রসগোল্লা। টাটকা গরুর দুধের ছানায় বানানো।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳৬০০–১,৫০০
- ভালো হোটেল
- ৳১,৫০০–৩,০০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- তথ্য নেই
এই জেলার দামের সীমাটা আশপাশের জেলা দেখে আনুমানিক ধরা। নিচে কোনো হোটেলের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
দামগুলো কোথা থেকে
আনুমানিক: ঝালকাঠির হোটেল ভাড়ার নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি; কুষ্টিয়া (৫০০–২,০০০), মেহেরপুর (৫০০–২,০০০), নওগাঁর (৫০০–৩,০০০) মতো ছোট জেলা শহরের পাওয়া দাম দেখে ধরা।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৭০০–২,২৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (১টি)
- দেবনাথ মিষ্টান্ন ভান্ডার কামারপট্টি, ঝালকাঠি শহর
- রসগোল্লা (একেকটা ৭০-৮০ গ্রাম) · ৳২৫/পিস
সাধারণ হোটেল ২০২৩ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- ঝালকাঠির পেয়ারা ভীমরুলী ভাসমান বাজারে মৌসুমে কেজি আনুমানিক ২০–৫০ টাকা
- ঝালকাঠির আমড়া ভীমরুলী আর স্থানীয় বাজারে
- ঝালকাঠির রসগোল্লা ঝালকাঠি শহরের সাধনার মোড়ে নগেন ঘোষ, বড় বাজারে গোপাল ঘোষ আর কামারপট্টিতে দেবনাথ মিষ্টান্ন ভান্ডার প্রতিটি প্রায় ২৫ টাকা
দামগুলো কোথা থেকে
এটা আন্দাজ। ঝালকাঠির খাবারের তারিখসহ দাম পাওয়া যায়নি, তাই আশপাশের জেলার হিসাব ধরা হয়েছে। দাম মিলেছে শুধু শহরের নামকরা রসগোল্লার, প্রতিটা ২৫ টাকা (২০২৩)। ভীমরুলির পেয়ারার হাটে বৌদির হোটেলের মতো ভাসমান হোটেলে ভাত, দেশি মাছ, মুরগি আর হাঁস পাওয়া যায়।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
ঝালকাঠি গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?
ঝালকাঠির নামকরা জায়গার মধ্যে আছে ভীমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার, কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি, গাবখান সেতু, সুগন্ধা নদীর ঘাট আর সাতুরিয়া মিয়াবাড়ি, শেরে বাংলার জন্মস্থান। আমাদের গাইডে ঝালকাঠির মোট ৭টা ঘোরার জায়গার খোঁজ আছে, প্রতিটায় কীভাবে যাবেন আর কখন যাবেন সেটাও লেখা।
ঢাকা থেকে ঝালকাঠি যেতে কত সময় লাগে?
সড়কপথে ঢাকা থেকে ঝালকাঠি প্রায় ২০০ কিলোমিটার। বাসে বা গাড়িতে মোটামুটি ৫–৭ ঘণ্টা লাগে, পথে জ্যাম কেমন তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে।
ঝালকাঠি ঘুরতে খরচ কেমন?
সাধারণ হোটেলে এক রাতের রুম ভাড়া ৬০০–১,৫০০ টাকা, ভালো হোটেলে ১,৫০০–৩,০০০ টাকা। দুজনে এক রুমে থাকলে থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি দিনে মোটামুটি ৭০০–২,২৫০ টাকা পড়ে। ঢাকা থেকে যাওয়া‑আসার ভাড়া এর বাইরে। দামগুলো আনুমানিক।
ঝালকাঠি যাওয়ার সেরা সময় কখন?
ভাসমান বাজার দেখতে জুলাই–সেপ্টেম্বর, ঠান্ডায় আরামে ঘুরতে নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি।
ঝালকাঠি গিয়ে কী খাবেন?
ঝালকাঠির খাবারের মধ্যে চেখে দেখুন ঝালকাঠির পেয়ারা, ঝালকাঠির আমড়া আর ঝালকাঠির রসগোল্লা। কোনটা কোথায় পাবেন, তা প্রতিটার পাতায় লেখা আছে।




