
রাঙ্গামাটি Rangamati
পাহাড়, নৌকা আর মেঘের ওপরের গ্রাম
রাঙামাটির সবকিছু কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে। বিশাল এই জলাধারে উপত্যকা ডুবে গিয়ে পাহাড়ের চূড়াগুলো এখন দ্বীপ। এখানে ঘোরাফেরা চলে নৌকায়। পথে পড়বে চাকমা গ্রাম, বৌদ্ধ বিহার আর ঝর্ণা। আর জেলার উত্তরে উঁচু পাহাড়ের মাথায় সাজেক, ভোরে যেখানে মেঘ থাকে পায়ের নিচে।
- কাপ্তাই হ্রদ
- ঝুলন্ত সেতু
- সাজেক ভ্যালি
- চাকমা সংস্কৃতি
- বিজু উৎসব
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা কাপ্তাই হ্রদ
Kaptai Lakeদেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। সবুজ দ্বীপের গোলকধাঁধা, ধীরে নৌকায় ঘুরলেই সবচেয়ে ভালো লাগে।
ঘোরার জায়গা রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু
Rangamati Hanging Bridgeহ্রদের এক বাহুর ওপর লাল রঙের ঝুলন্ত সেতু। রাঙামাটি বললে সবার আগে এটাই মনে পড়ে।
ঘোরার জায়গা সাজেক ভ্যালি
Sajek Valleyরাঙামাটির একেবারে উত্তরে পাহাড়ের মাথার গ্রাম। মেঘের সাগরে সূর্য ওঠা দেখতেই সবাই যায়।
ঘোরার জায়গা শুভলং ঝর্ণা
Shuvolong Waterfallপাহাড়ের খাড়া গা বেয়ে সোজা কাপ্তাই হ্রদে নেমেছে উঁচু ঝর্ণা। যাওয়ার পথ একটাই, নৌকা।
ঘোরার জায়গা রাজবন বিহার
Rajban Viharaহ্রদের পাড়ে বড় বৌদ্ধ বিহার। পাশেই চাকমা রাজার বাড়ি।
ঘোরার জায়গা কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান
Kaptai National Parkকাপ্তাইয়ে কর্ণফুলীর ধারে পাহাড়ি চিরসবুজ বন। বনের পথ আর নদীর পাড়ে বসার জায়গা।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট জাদুঘর
Tribal Cultural Institute Museumরাঙামাটি শহরে ছোট্ট জাদুঘর। পাহাড়ের মানুষদের পোশাক, হস্তশিল্প আর ইতিহাস দেখা যায়।
খাবার
প্রতীকী ছবি খাবার পাজন
Pajonনানা রকম সবজি একসঙ্গে রাঁধা চাকমাদের উৎসবের তরকারি। বিজুতে ঘরে আসা প্রত্যেক অতিথিকে খাওয়ানো হয়।
খাবার ব্যাম্বু চিকেন
Bamboo Chickenমসলা মাখানো মুরগি কাঁচা বাঁশের চোঙায় ভরে কয়লার আগুনে পোড়ানো। নরম, ধোঁয়ার গন্ধমাখা।
খাবার কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা
Kaptai Lake Kachki and Chapilaকাপ্তাই হ্রদ থেকে সদ্য ধরা রুপালি কাচকি আর চাপিলা। মচমচে ভাজা বা পেঁয়াজ‑মরিচে চচ্চড়ি।
খাবার নানিয়ারচরের হানিকুইন আনারস
Naniarchar Honey Queen Pineappleনানিয়ারচরের পাহাড়ে ফলা ছোট আকারের, খুব মিষ্টি হানিকুইন আনারস।
খাবার রাঙামাটির পাহাড়ি কমলা
Rangamati Hill Orangeনানিয়ারচর আর আশপাশের উপজেলার বাগানের কমলা। ডিসেম্বর‑জানুয়ারিতে রাঙামাটি শহরে বিক্রি হয়।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳৮০০–২,০০০
- ভালো হোটেল
- ৳২,০০০–৩,৬০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- ৳৫,০০০–১৫,০০০
ভিড়ের সময়: সাজেকে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০০–১৩৫টি রিসোর্ট-কটেজ আছে; ঈদ বা ডিসেম্বরের লম্বা ছুটিতে আগেই সব রুম বুক হয়ে যায়, তাই বুকিং দিয়ে তারপর যান।
হোটেলের নাম ও দাম (১টি)
- পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স ঝুলন্ত সেতুর কাছে, রাঙামাটি
দামগুলো কোথা থেকে
মাঝারি দাম পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ২০২৬ সালের ভাড়া থেকে; সস্তা হোটেলের দাম জেলা পোর্টালের তালিকা থেকে (তারিখ নেই)। প্রথম আলোর মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদন বলছে রাঙামাটিতে রুম ২–৭.৫ হাজার আর সাজেকে ১–১৫ হাজার টাকা। দামি স্তরটা সাজেকের ওপরের দিকের রিসোর্ট ধরে আনুমানিক।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৯০০–২,৬০০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
এই জেলার রেস্টুরেন্টের দাম আমাদের হাতে নেই।
চেখে দেখুন
- পাজন বিজুর সময় চাকমাদের বাড়িতে। এপ্রিলে রাঙামাটির কয়েকটা আদিবাসী রেস্তোরাঁতেও পাবেন
- ব্যাম্বু চিকেন সাজেকের রেস্তোরাঁ আর কটেজে। কয়েক ঘণ্টা আগে অর্ডার দিয়ে রাখুন এক চোঙা মোটামুটি ৬০০–১২০০ টাকা
- কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা টাটকা মাছের জন্য রাঙামাটি শহরের বিএফডিসি মাছঘাট; রান্না খেতে শহরের ভাতের হোটেল আর হ্রদের দ্বীপের রেস্তোরাঁ
- নানিয়ারচরের হানিকুইন আনারস মৌসুমে নানিয়ারচর বাজার, আর রাঙামাটি শহরের ফলের ঘাটগুলো (সমতা ঘাটের আশপাশ)
- রাঙামাটির পাহাড়ি কমলা ডিসেম্বর‑জানুয়ারিতে রাঙামাটি শহরের সমতা ঘাট এলাকা ও বাজার, আর নানিয়ারচর বাজার আকারভেদে কেজি মোটামুটি ৩০০–৪৫০ টাকা
দামগুলো কোথা থেকে
তথ্য কম, বেশির ভাগই সাজেকের: ভ্রমণ গাইডে ভাত-ডাল-ভর্তার খাবার ১০০-২০০ টাকা, ব্যাম্বু চিকেন ২২০-৩০০ টাকা (২০২৬ সালের এক গাইডে ২৫০-৫০০ টাকা), আর তিন বেলায় ৪৫০-৭০০ টাকা লেখা আছে; রাঙামাটি শহরের কোনো রেস্তোরাঁর দাম পাইনি, আর এই হিসাবগুলো কয়েক বছরের পুরোনো হতে পারে।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।




