
কক্সবাজার Cox's Bazar
লম্বা সৈকত, প্রবালদ্বীপ আর জেলেপাড়া
কক্সবাজারের সৈকত দুনিয়ার সবচেয়ে লম্বা প্রাকৃতিক বালুর সৈকতগুলোর একটা। বঙ্গোপসাগরের পাড় ধরে দক্ষিণে টেকনাফের দিকে চলে গেছে। হোটেলের সারি ছাড়িয়ে একটু এগোলেই হিমছড়ি, যেখানে পাহাড় এসে নেমেছে সাগরে। তারপর ইনানীর পাথুরে পাড়। ওদিকে মহেশখালী দ্বীপে পাহাড়ের মাথায় মন্দির। আর আছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ, সেন্ট মার্টিন।
- লম্বা বালুর সৈকত
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
- মেরিন ড্রাইভ
- তাজা সামুদ্রিক মাছ
- শুঁটকি
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
Cox's Bazar Sea Beachএকশো কিলোমিটারের বেশি লম্বা, আলতো ঢালের বালুর সৈকত। সাগরে সূর্য ডোবা দেখতে সারা দেশের মানুষ এখানে আসে।
ঘোরার জায়গা হিমছড়ি
Himchariসবুজ পাহাড় সোজা নেমে এসেছে সৈকতে। পাহাড়ের মাথায় ভিউপয়েন্ট, পাশে মৌসুমি ছোট্ট ঝর্ণা।
ঘোরার জায়গা ইনানী সৈকত
Inani Beachএকটু নিরিবিলি সৈকত। ভাটার সময় অগভীর পানি থেকে কালো পাথর আর প্রবাল‑পাথর মাথা তোলে।
ঘোরার জায়গা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
St. Martin's Islandদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ। নারকেলগাছ, নীলচে‑সবুজ স্বচ্ছ পানি, আর খুব নাজুক প্রবালের জগৎ।
ঘোরার জায়গা মহেশখালী ও আদিনাথ মন্দির
Maheshkhali Island and Adinath Templeশহর থেকে অল্প নৌপথে পাহাড়ি দ্বীপ। চূড়ায় পুরোনো আদিনাথ শিবমন্দির, চারপাশে ম্যানগ্রোভ।
ঘোরার জায়গা কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ
Cox's Bazar–Teknaf Marine Driveএক পাশে সবুজ পাহাড়, অন্য পাশে খোলা সমুদ্র। মাঝ দিয়ে ৮০ কিলোমিটারের রাস্তা, দেশের সবচেয়ে সুন্দর ড্রাইভ।
ঘোরার জায়গা রামকোট বনাশ্রম ও রামুর বৌদ্ধ বিহার
Ramkot Banashram and the Buddhist temples of Ramuপাহাড়চূড়ার এই বিহারটাকে দেশের সবচেয়ে পুরোনো বলা হয়। ঘিরে আছে রামুর আরও অনেক বৌদ্ধ মন্দির।
ঘোরার জায়গা ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
Dulahazra Safari Parkচকরিয়ার বনঢাকা টিলায় দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। অনেক প্রাণী বড় বড় ঘেরা জায়গায় ঘুরে বেড়ায়।
খাবার
খাবার সামুদ্রিক মাছ ভাজা
Beachside Seafood Fryবরফের ওপর থেকে আস্ত মাছ, কাঁকড়া বা চিংড়ি বেছে দিন, চোখের সামনেই ঝাল মসলায় ভেজে দেবে।
খাবার নাজিরারটেকের শুঁটকি
Shutki from Nazirartekদেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকিপল্লিগুলোর একটা। রোদে মাছ শুকানোর সারি, আর কড়া গন্ধের শুঁটকির বাজার।
খাবার লইট্টা ফ্রাই ও কোরাল মাছ
Loitta Fry and Coral Curryমচমচে লইট্টা ফ্রাই আর কোরাল মাছের ঝোল। কক্সবাজার শহরে সামুদ্রিক মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া মানে এটাই।
খাবার মহেশখালীর মিষ্টি পান
Maheshkhali Sweet Paanমহেশখালী দ্বীপের পাহাড়ে জন্মানো পান। মিষ্টি স্বাদের জন্য সারা দেশে এর নাম আছে।
প্রতীকী ছবি খাবার রাখাইন খাবার ও বার্মিজ আচার
Rakhine Food and Burmese Picklesরাখাইনদের দোকানে মুন্ডি, বিন্নি চালের ভাত আর স্কুইডের সালাদ। সঙ্গে বার্মিজ মার্কেটের আচার।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳১,০০০–২,৫০০
- ভালো হোটেল
- ৳২,৫০০–৫,৫০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- ৳৬,৫০০–১৫,০০০
ভিড়ের সময়: ডিসেম্বর–জানুয়ারি, শুক্রবার আর ঈদের ছুটিতে ৫০০-র বেশি হোটেলের বেশির ভাগই ভরে যায়, ভাড়াও বাড়ে। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের অফ-সিজনে অনেক হোটেল ৫০% পর্যন্ত ছাড় দেয়।
হোটেলের নাম ও দাম (৮টি)
- মোটেল প্রবাল (পর্যটন) মোটেল রোড, কক্সবাজার
- মোটেল লাবনী (পর্যটন) মোটেল রোড, কক্সবাজার
- মোটেল উপল (পর্যটন) মোটেল রোড, কক্সবাজার
- হোটেল নেটং (পর্যটন) টেকনাফ
- হোটেল শৈবাল (পর্যটন) মোটেল রোড, কক্সবাজার
- হোটেল সি ক্রাউন কলাতলী সৈকত
- সায়মন বিচ রিসোর্ট মেরিন ড্রাইভ, কলাতলী
- সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ইনানী সৈকত
দামগুলো কোথা থেকে
সস্তা আর মাঝারি দাম পর্যটন করপোরেশনের মোটেল প্রবাল, লাবনী, উপল আর হোটেল শৈবালের ২০২৬ সালের ভাড়া আর প্রথম আলোর মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদন থেকে (মাঝারি ও সস্তা হোটেল ১–৫ হাজার, পাঁচ তারকার সাধারণ রুম ৫–২৩ হাজার টাকার বেশি); আলাদা দামি হোটেলের ভাড়া ২০২৩–২৪ সালের পত্রিকা থেকে।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳১,১৫০–৪,১৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৫টি)
- পউষী রেস্টুরেন্ট ডলফিন মোড় / হোটেল সায়মন রোড, কক্সবাজার শহর
- নাশতা বা দুপুরের প্যাকেজ (পরোটা, ডাল-ভাজি, ডিম, চা; অথবা ভাত-ডালের সঙ্গে মাছ বা মাংস) · ৳১৫০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৪ সালের দাম · সূত্র - ঝাউবন রেস্টুরেন্ট হোটেল সায়মন রোড, কক্সবাজার শহর
- ভাত, ডাল, শুটকি-মাছের ভর্তা আর সামুদ্রিক মাছের তরকারি দিয়ে দুপুরের খাবার (সর্বোচ্চ) · ৳৫০০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৪ সালের দাম · সূত্র - শালিক রেস্টুরেন্ট ডলফিন মোড়, কক্সবাজার শহর
- নাশতা: পরোটা বা নানের সঙ্গে কলিজা, ডিম বা মুরগি (সর্বোচ্চ) · ৳২০০/প্লেট
- ভর্তার থালা, কালা ভুনা আর সামুদ্রিক মাছ দিয়ে দুপুরের খাবার · ৳৬০০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৪ সালের দাম · সূত্র - আল গণি রেস্টুরেন্ট পুলিশ স্টেশন রোড, কক্সবাজার শহর
- ভাত, ডাল, মেজবানি গরু বা মুরগি, ভর্তা আর সামুদ্রিক মাছ দিয়ে পুরো খাবার (সর্বোচ্চ) · ৳৫০০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৪ সালের দাম · সূত্র - পালংকি রেস্টুরেন্ট ইনানী সৈকতের কাছে, মেরিন ড্রাইভ, উখিয়া
- বাংলা, থাই বা ভারতীয় খাবারের এক বেলা (সর্বোচ্চ) · ৳৬০০/প্লেট
- গ্রিল করা সামুদ্রিক খাবার: চিংড়ি, স্কুইড, কাঁকড়া বা রূপচাঁদা (সর্বোচ্চ) · ৳৫০০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৪ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- সামুদ্রিক মাছ ভাজা সুগন্ধা আর কলাতলী পয়েন্টের আশপাশের দোকানে মাছ বুঝে দাম অনেক ওঠানামা করে। ভাজতে দেওয়ার আগেই পিস বা কেজির দাম ঠিক করে নিন
- নাজিরারটেকের শুঁটকি কক্সবাজার শহরের শুঁটকির দোকানে, আর যেসব রেস্তোরাঁয় শুঁটকি ভর্তা পাওয়া যায় মাছ বুঝে দাম আলাদা, কেজি মোটামুটি ৫০০–২০০০ টাকা
- লইট্টা ফ্রাই ও কোরাল মাছ কক্সবাজার শহরের ডলফিন মোড়, সায়মন রোড আর থানা রোডের ভাতের হোটেল (লইট্টা ফ্রাইয়ের জন্য সায়মন রোডের ঝাউবন পরিচিত) সামুদ্রিক মাছ দিয়ে একজনের খাবার মোটামুটি ৪০০–৬০০ টাকা
- মহেশখালীর মিষ্টি পান মহেশখালী দ্বীপের গোরকঘাটা বাজার আর পানের বরজের এলাকা (কক্সবাজারের ৬ নম্বর জেটি থেকে স্পিডবোটে অল্প সময়ের পথ)
- রাখাইন খাবার ও বার্মিজ আচার কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কে রাখাইনদের রেস্তোরাঁ (যেমন খিং মুন্ডি), আর টেকপাড়ার বার্মিজ মার্কেট
দামগুলো কোথা থেকে
বাজেট হিসাবে ধরা হয়েছে শহরের ভাতের হোটেলে ভাত (২০-৫০ টাকা), ডাল আর ভাগাভাগি করে এক প্লেট লইট্যা ফ্রাই (১০০-১৫০ টাকা); মাঝারির হিসাব ২০২৪ সালে পউষী, ঝাউবন, আল গণি আর শালিকে জনপ্রতি যে খরচের কথা এসেছে সেখান থেকে (দুপুরে মোটামুটি ৫০০-৭০০ টাকা); পাঁচ তারকা হোটেলের বুফের দাম কোথাও পাইনি, তাই দামি স্তর রাখা হয়নি।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।



